বাড়িঅপরাধ ও দুর্নীতিপ্রেট্রোলের আগুনে পোড়া গৃহবধূ না ফেরার দেশে

প্রেট্রোলের আগুনে পোড়া গৃহবধূ না ফেরার দেশে

 

DEBIDWAR PIC_ - PATROLE DOGDHO GRIHOBODHO'R MRITHO- 03.02.15 (4)

আকতার হোসেন, সময় সংবাদ বিডি-

কুমিল্লাঃ গত ২৬ জানুয়ারী দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বাজেবাখর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতি পক্ষের ছোড়া পেট্রোলের আগুনে ঝলসে যায় এক গৃহবধূ। পরদিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার ৭দিন পর তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় নিহতার পুত্র আব্দুল কাদির বাদী হয়ে মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট এর ৪নং আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাজেবাকর গ্রামের মৃতঃ হামিদ আলীর পুত্র শরফত আলী ও শরফত আলীর পুত্র বিল্লাল হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়।

নিহতার পুত্র মামলার বাদী আব্দুল কাদির জানান, গত ২৬ জানুয়ারী সোমবার রাত পৌনে ১০টায় তার মাতা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘর থেকে বের হন। এসময় পূর্বপরিকল্পীত ভাবে ঘরের পাশে উৎপেতে থাকা শরফত আলী ও তার পুত্র বিল্লাল হোসেন তার মাতার মুখ চেঁপে শ্বাস রুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তারা গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে আগুনে মারাত্মক ঝলসানো তার মায়ের সূর চিৎকারে ছুটে আসা স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরদিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ওখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২ফেব্রুয়ারী) তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি পক্ষ প্রভাবশালী ফলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। প্রতি পক্ষের শরফত আলীর পরিবার একসময় দরিদ্র থাকলেও, তার এক কণ্যা ও চার পুত্র সৌদী আরবে থাকায় আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়ে উঠে।

অপর দিকে ১৯৬৫ সালে ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাদী আব্দুল কাদিরের পিতা মৃতঃ আবুল হাসেম ভারত থেকে বিনিময় সূত্রে অত্র উপজেলার বাজেবাখর গ্রামের নন্দী বাড়ির ১৪শতাংশ জমির উপর বসবাস করে আসছিল। ওই সম্পত্তি দখলের পায়তারা চালাতে যেয়ে প্রতিপক্ষ মামলা- হামলায় জড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। প্রায় ২০/২৫দিন পূর্বে শরাফত আলরি পুত্র বিল্লাল হোসেন বাড়িতে এসে কাদিরের পরিবারকে উচ্ছেদ করতে ওই হত্যাকান্ড ঘটায়। স্থানীয় আ’লীগের প্রভাবশালী নেতারা হামলাকারীদের পক্ষ নেয়। এবং এ ব্যপারে থানায় গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন সহযোগীতা না পাওয়ায়ও ভোক্তভোগীরা হতাশ ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ জানান, আব্দুল কাদির সাধারন ও হাবা প্রকৃতির লোক। তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম একটু চালাক হওয়ায় প্রতিপক্ষ নিহতা হয়জনেরনেছাকে আনোয়ারা মনে করেই হত্যার চেষ্টা করেছিল। আনোয়ারা তখন এক প্রসূতীর সেবায় পাশ্ববর্তী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে প্রাপ্ত মৃত্যুর প্রমান পত্রে উল্লেখ করা হয় ‘আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’ এবং ঢাকা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক(এস,আই) রবিউল ইসলাম জানান, সমস্ত মুখমন্ডল পুরা ঝলসানো এবং যৌনাঙ্গ পোড়া ও গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বেন্ডেজ দিয়ে পেচানো ছিল।

এব্যাপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিদগ্ধের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেল ফোনে জানালেও ভোক্তভূগিদের পক্ষ থেকে আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবগত করেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Must Read

spot_img